মিউটেশনের বৃদ্ধিতে দুর্বল হয়ে পড়ছে করোনা, দাবি বিশেষজ্ঞদের
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: দেশে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তবে তারমধ্যেও আশার আলো হল, প্রাণহানি কিন্তু ক্রমশ কমে আসছে। বহু বৈজ্ঞানিকরা দাবি করছেন, এই রোগ কিছু সময়ের মধ্যে সমাপ্ত হবে। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, জীবাণুর শক্তি দ্রুত কমে যাচ্ছে। করোনা অতিমারীর শুরুতে যেমন ঘাতক রূপ নিয়েছিল, এখন তেমনটা নেই।
অন্যদিকে, ইতালির বিখ্যাত সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মেটিও বাশেট্টি জানিয়েছেন, আমাদের দেশের রোগীদের শারীরিক পরিস্থিতিই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, করোনার মারণ ক্ষমতা আগের থেকে অনেক কমেছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, যে সমস্ত বয়স্ক রোগীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে সেরে উঠছেন। অথচ কয়েক মাস পূর্বেও বয়স্করা করোনায় আক্রান্ত হলে বেঁচে থাকার আশা প্রায় ক্ষীণ হয়ে যেত।
ওই বিশেষজ্ঞের মতে, আসলে কোভিড-১৯ ভাইরাস দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষের শরীরে প্রবেশ করে জেনোমের প্রতিকৃতি তৈরি হচ্ছে। আরএনএ ভাইরাস অনেক সময় নিজের সম্পূর্ণ জেনোমের কপি করতে পারে না। কিছুটা বাকি থেকেই যায়। এরপর ভাইরাসেরই মিউটেশন ঘটে। মিউটেশনে ভাইরাস নিজের গতি বাড়ায় ঠিকই, কিন্তু মিউটেশনের বৃদ্ধির ফলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা হ্রাস পায়।
এক্ষেত্রে বাশেট্টি আরও জানান, ৮০-৯০ বছরের ব্যক্তিরাও ভেন্টিলেটর ছাড়াই এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। আগে এঁদেরই ২–৩ দিনের বেশি বাঁচার আশা থাকত না। মিউটেশনের ফলে ফুসফুসের আর তেমন ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারছে না কোভিড-১৯।
অন্যদিকে, দিল্লির সঞ্জয় গাঁধী আয়ুর্বিজ্ঞান সংস্থানের মলিকিউলার মেডিসিন অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক মদন মোহন গোডবোলের কথায়, কোভিড-১৯ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়লেও মৃতের হার ধীরে ধীরে কমছে। তাঁর বক্তব্য, জীবাণু ২ রকম। একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অন্যটি দুর্বল। বিপজ্জনক ভাইরাসটিতে সংক্রমণের হার কম এবং তা ছড়ায় কম লোকের মধ্যে।
অন্যদিকে দুর্বল ভাইরাসটি ছড়ায় দ্রুত। এইভাবেই শুরু হয় দুই ভাইরাসের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই। এরপর দুর্বল ভাইরাসটি টিকে থাকে। তবে তাতে সংক্রমিতের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর হার কমে যায়। এরমধ্যেই মানুষের শরীর এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে তৈরি করে নেয়। তাঁর মতে, করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দেশে দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকবে।

